মা দুর্গা আগমন
আদিত্য ভৌমিক
![]() |
| লেখক আদিত্য ভৌমিক রচিত ছোটগল্প "মা দুর্গা আগমন"-এর বিশেষ ব্যানার। মানুষের হৃদয়ে ও মানবতায় দেবী দুর্গার আগমন—বাংলা সাহিত্য : অনলাইন ম্যাগাজিন-এর শারদীয় নিবেদন। |
শহরের পূজামণ্ডপগুলোতে তখন ব্যস্ততা। কেউ প্রতিমা সাজাচ্ছে, কেউ আলোকসজ্জা করছে। কেউ ফুল দিয়ে মণ্ডপ সাজাচ্ছে। শিশুরা নতুন জামাকাপড় হাতে নিয়ে আনন্দে ছুটে বেড়াচ্ছে। সবার চোখে অপেক্ষা, সবার মনে একটাই আকাঙ্ক্ষা, কখন আসবেন মা দুর্গা।
এই আনন্দের ভিড়ের বাইরে শহরের এক কোণে থাকত রতন নামের একটি ছোট ছেলে। তার বাবা অনেক দিন ধরে অসুস্থ। সংসারে অভাব। পূজার নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। অন্য শিশুরা যখন নতুন জামা পরে মণ্ডপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, রতন তখন ভাঙা জানালার পাশে বসে চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
তার মা মৃদু হেসে বললেন, “মন খারাপ করিস না বাবা। মা দুর্গা সবার ঘরে আনন্দ নিয়ে আসেন।”
রতন মায়ের দিকে তাকায়, “মা কি আমাদের ঘরেও আসবেন?”
মা কিছু বলতে পারল না। শুধু ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরল। চোখের জলটা বোধ হয় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেন।
সেদিন সপ্তমীর সকাল। ঢাকের শব্দে চারদিক মুখরিত। রতন দূর থেকে পূজামণ্ডপের দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ মণ্ডপের কয়েকজন তরুণ তাকে দেখতে পেল। কাছে এল। জানতে চাইল তার কথা। রতন মুখে এক টুকরো হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করল।
তুমি মায়ের কাছে কী চাও?
কিছু না।
কেন?
রতনের চোখ দুটো ভিজে গেলো। গলাটা ধরে এলো। অনেক চেষ্টা করে শেষমেশ বলে ফেলল--
বাবা অসুস্থ। তার সেরে ওঠাটা দরকার।
তারা রতনের জন্য নতুন পোশাক নিয়ে এল। কথা দিল বাবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।
রতন নতুন পোশাক পরে মণ্ডপে এসে দেবী দুর্গার দিকে তাকিয়ে রইল। প্রতিমার চোখের দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, মা যেন সত্যিই তার দিকে তাকিয়ে মৃদু মৃদু হাসছেন।
তার চোখ দিয়ে আনন্দ গড়িয়ে পড়ল। সে মনে মনে বলল, “মা, তুমি কি সত্যিই এসেছ? শুধু মণ্ডপে নও, তুমি মানুষের হৃদয়ে!”
সেদিন পূজামণ্ডপে ধূপের গন্ধ, ঢাকের শব্দ আর উলুধ্বনির সঙ্গে মিশে গেল মানুষের ভালোবাসা। কেউ কারও ধর্ম, পরিচয় কিংবা সামর্থ্য দেখল না। সবাই শুধু মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখল।
একজন বৃদ্ধ এসে বললেন, “দেবী দুর্গার আগমন শুধু প্রতিমার আগমন নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস, দুঃখের মাঝে আশার আলো এবং মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার আগমন।”
সন্ধ্যায় যখন মণ্ডপের হাজারো প্রদীপ জ্বলে উঠল, রতন তার মায়ের হাত ধরে মণ্ডপের খানিকটা কাছে আসার চেষ্টা করলো। কিন্তু পারল না। কোলাহল মুক্ত এক কোণে এসে দাড়িয়ে পড়ল দুজন। মায়ের চোখের কোণে জমে থাকা অদৃশ্য জল আর মন্ডপ জুড়ে জ্বলে থাকা প্রদীপের নিচে জমা আবছা অন্ধকার -- দুইয়ের কারণ ও পার্থক্য বোঝার চেষ্টায় সে চোখের পাতা দুটো আসতে আসতে মুড়ে ফেলল।
তারা রতনের জন্য নতুন পোশাক নিয়ে এল। কথা দিল বাবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।
রতন নতুন পোশাক পরে মণ্ডপে এসে দেবী দুর্গার দিকে তাকিয়ে রইল। প্রতিমার চোখের দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, মা যেন সত্যিই তার দিকে তাকিয়ে মৃদু মৃদু হাসছেন।
তার চোখ দিয়ে আনন্দ গড়িয়ে পড়ল। সে মনে মনে বলল, “মা, তুমি কি সত্যিই এসেছ? শুধু মণ্ডপে নও, তুমি মানুষের হৃদয়ে!”
সেদিন পূজামণ্ডপে ধূপের গন্ধ, ঢাকের শব্দ আর উলুধ্বনির সঙ্গে মিশে গেল মানুষের ভালোবাসা। কেউ কারও ধর্ম, পরিচয় কিংবা সামর্থ্য দেখল না। সবাই শুধু মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখল।
একজন বৃদ্ধ এসে বললেন, “দেবী দুর্গার আগমন শুধু প্রতিমার আগমন নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস, দুঃখের মাঝে আশার আলো এবং মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার আগমন।”
সন্ধ্যায় যখন মণ্ডপের হাজারো প্রদীপ জ্বলে উঠল, রতন তার মায়ের হাত ধরে মণ্ডপের খানিকটা কাছে আসার চেষ্টা করলো। কিন্তু পারল না। কোলাহল মুক্ত এক কোণে এসে দাড়িয়ে পড়ল দুজন। মায়ের চোখের কোণে জমে থাকা অদৃশ্য জল আর মন্ডপ জুড়ে জ্বলে থাকা প্রদীপের নিচে জমা আবছা অন্ধকার -- দুইয়ের কারণ ও পার্থক্য বোঝার চেষ্টায় সে চোখের পাতা দুটো আসতে আসতে মুড়ে ফেলল।
---------xx---------

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন